| সাল | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
|---|---|---|---|
| অভ্যন্তরীণ মৎস্য | ২৫.১৫ লক্ষ মেট্রিক টন | ২৬.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন | ২৭.৮১ লক্ষ মেট্রিক টন |
| প্রবৃদ্ধির হার% | ||
|---|---|---|
| সাল | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
| মৎস্য সম্পদ | ৫.৩৯ | ৫.৫২ |
| অবদানের হার% | ||
| সাল | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
| মৎস্য সম্পদ | ৪.৩৯ | ৪.৩৭ |



Sarbeek delivers a sleek, elegant and polished professional Blogger template design for novice & Seasoned Developers.
| সাল | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
|---|---|---|---|
| অভ্যন্তরীণ মৎস্য | ২৫.১৫ লক্ষ মেট্রিক টন | ২৬.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন | ২৭.৮১ লক্ষ মেট্রিক টন |
| প্রবৃদ্ধির হার% | ||
|---|---|---|
| সাল | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
| মৎস্য সম্পদ | ৫.৩৯ | ৫.৫২ |
| অবদানের হার% | ||
| সাল | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
| মৎস্য সম্পদ | ৪.৩৯ | ৪.৩৭ |
| সাল | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
|---|---|---|---|
| রপ্তানি আয় | ৮৪৩২ মিলি. মার্কিন ডলার | ৯৬০৩ মিলি. মার্কিন ডলার | ১২০৪০ মিলি. মার্কিন ডলার |
| সাল | ২০১০-১১ | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ |
|---|---|---|---|
| পাটজাত দ্রব্য | ৭৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার | ৭০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার | ৪৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| কাঁচাপাট | ৩৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার | ২৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার | ১৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার |
সংকেত: ভূমিকা; উৎসব কী; বাংলাদেশের সামাজিক উৎসব; ঈদ উৎসব; পূজা উৎসব; বুদ্ধ-পূর্ণিমা ও প্রবারণা উৎসব; বড়দিন; বৈশাখী উৎসব; নবান্ন ও পিঠা উৎসব; স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উদযাপন; আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন; বৈসাবি উৎসব; পারিবারিক উৎসব; সামাজিক উৎসবের তাৎপর্য; উপসংহার।
ভূমিকাঃ মানুষ সামাজিক জীব এবং মানুষ মাত্রই সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। বাংলাদশের মানুষও এই চিরাচরিত নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। সমাজে একে অন্যের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করতে গিয়ে মানুষ আয়োজন করে বিভিন্ন উৎসবের। নানা ধরণের সামাজিক উৎসব এখন বাংলাদেশের মানুষের নিত্য সঙ্গী। রূপবৈচিত্র্যে ভরপুর সৌন্দর্যের লীলাভূমি এদেশকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করে রেখেছে বাঙালিদের এসব সামাজিক উৎসব।
উৎসব কীঃ কোনো সাম্প্রদায়িক বা পারিবারিক সমাবেশ থেকে আনন্দ লাভ করা গেলে সাধারণত তাকে উৎসব বলা হয়। উৎসব বলতে তাই যেকোনো আনন্দময় অনুষ্ঠানকে বুঝায়। তবে ভিন্ন ভিন্ন উৎসবের আনন্দের রং ও রূপ ভিন্ন হয়। সর্বসাধারণ বা অনেক লোকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্য ও চেতনার উপর ভিত্তি করে উৎসবকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন- ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, পারিবারিক উৎসব, জাতীয় উৎসব ইত্যাদি।
বাংলাদেশের সামাজিক উৎসবঃ বাঙালি জাতি সর্বদা উৎসবমুখর। সময়ভেদে তারা নানা উপলক্ষে নানা ধরণের উৎসবে মেতে থাকে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেই এদেশের অধিবাসীদের উৎসবপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি অপূর্ব সংমিশ্রণ রয়েছে বাংলাদেশে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে মুসলিমদের ঈদ উৎসব, হিন্দুদের পূজা উৎসব, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধ-পূর্ণিমা ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় উৎসবগুলো এখন অনেকটা সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে কেননা বর্তমানে যেকোনো ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন ভাবে পালিত হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনা থেকে জন্ম লাভ করেছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের মতো জাতীয় উৎসব। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রূপ প্রকাশ পায় বৈশাখী উৎসব, নবান্ন, পৌষ-পার্বণ ও পিঠা উৎসবের মাধ্যমে। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর উৎসবের মধ্যে বৈসাবি উৎসব সবচেয়ে জাঁকজমক ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়াও রয়েছে নানা উপলক্ষে নানা ধরণের পারিবারিক উৎসব।
ঈদ উৎসবঃ মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে ঈদ। তারা বছরে দুইবার ঈদ উদযাপন করে থাকে। একটি হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর আর অপরটি ঈদ-উল-আযহা। রমজান মাসে এক মাস রোজা পালনের পর ধর্মপরায়ণ মুসলমানেরা বিপুল আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ-উল-ফিতর পালন করে। একে অপরের খুশি ও আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যমে তারা তৈরি করে ভ্রাতৃত্বের দুর্বার একটি বন্ধন। এই ঈদের দুই মাস দশ দিন পর আসে দ্বিতীয় ঈদ অর্থাৎ ঈদ-উল-আযহা। এটি হচ্ছে ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করার একটি উপলক্ষ। জিলহজ্ব মাসের দশম দিনে এই উৎসব পালিত হয়। উভয় ঈদ উৎসবই বাংলাদেশে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এ সময় ভেদাভেদ ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একাকার হয়ে ভালোবাসা বিনিময় করে।
পূজা উৎসবঃ দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশে শরৎকালে দুর্গাপূজা পালন করা হয় প্রতি বছর। এ জন্য এ পূজাকে শারদীয় দুর্গাপূজাও বলা হয়। আশ্বিন মাসে আকাশে যে চাঁদ থাকে তার সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ষষ্ঠীর দিন ‘মায়ের বোধন’ উৎসব পালন করা হয়। সবচেয়ে বড় পূজা ‘সন্ধিপূজা’ পালন করা হয় অষ্টমী ও নবমীর মিলনক্ষণে। দশমীর দিন ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিকটবর্তী পুকুর বা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে শেষ হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু ধর্মের পালনীয় উল্লেখযোগ্য পূজার মধ্যে আরো রয়েছে চৈতপূজা, রথযাত্রা উৎসব, জন্মাষ্টমী, স্বরস্বতী পূজা, লক্ষ্মীপূজা, কালিপূজা ইত্যাদি। সকল পূজাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধন আরো দৃঢ় করে।
বুদ্ধ পূর্ণিমা ও প্রবারণা উৎসবঃ বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে বুদ্ধ-পূর্ণিমা। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে আগত এক মহামানবকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসব। কোনো এক বৈশাখী পূর্ণিমার তিথিতে নেপালের লুম্বিনী শালবনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বুদ্ধদেব। পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত এই দিনটিকে পরবর্তীতে গৌরবময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘বুদ্ধ-পূর্ণিমা’ নামে পালন করে গোটা বৌদ্ধ সম্প্রদায়। প্রবারণা ও কঠিন চীবর দান হচ্ছে এই সমাজের আরো একটি পবিত্র উৎসব। প্রবারণা উৎসব হয় শরৎকালে।
বড়দিনঃ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর পালন করে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। পশ্চিমা দেশগুলোতে এ দিনটি ‘ক্রিসমাস ডে’ নামে পরিচিত। যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ দিন আনন্দভোগ ও উৎসব-ই পুরো আয়োজনের মূল বিষয়।
বৈশাখী উৎসবঃ বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতির ঐতিহ্য বহনকারী সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর ১লা বৈশাখে মহা ধুমধাম ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় বৈশাখী উৎসব। পুরো বছরের দুঃখ-বেদনা পিছনে ফেলে নতুনের বার্তা নিয়ে আসে ১লা বৈশাখ। এ উৎসব বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্য। দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে বাঙালি তার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রবাহকে ধরে রাখার প্রয়াস পায়। ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এদিন নতুন বছরের হিসাব চালু করা হয়। সার্বজনীন উৎসব হিসেবে বৈশাখী উৎসব সর্বশ্রেষ্ঠ।
নবান্ন ও পিঠা উৎসবঃ বাংলাদেশে অগ্রহায়ণ মাসে পালন করা হয় নবান্ন উৎসব। নবান্ন মূলত কৃষকদের আনন্দ প্রকাশ করার উৎসব। নতুন শস্য ঘরে তোলার আনন্দে সবাই উৎসবে মেতে উঠে। এরপরেই আসে পৌষ-পার্বণ তথা পিঠা উৎসবের উপলক্ষ। এ উৎসব এখনো বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের সাথে মিশে আছে আনন্দের বার্তাবাহক হিসেবে। এছাড়াও পৌষ সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব।
স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উদযাপনঃ বাংলাদেশ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফসল। এ দেশের সোনার ছেলেরা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একই বছর ১৬ ডিসেম্বর তারা বীরত্বপূর্ণ জয় লাভের মাধ্যমে বিশ্বকে উপহার দেয় বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এ ২টি দিন বাংলাদেশিদের জীবনে অপরিসীম তাৎপর্য বহন করে। তাই ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে জাতীয়ভাবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনঃ পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে ভাষার জন্য আন্দোলন করে মানুষ শহিদ হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা ভাষা। বাংলার দামাল ছেলেরা নিজ জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছিল তার স্মরণে প্রতি বছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমীতে আয়োজন করা হয় মাসব্যাপী একুশে বইমেলা। তাছাড়া, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এ দিবসটি বাংলাদেশের মানুষ মহা সমারোহে উদযাপন করে।
বৈসাবি উৎসবঃ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় উৎসবের নাম বৈসাবি। তিন প্রধান ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের তিনটি অনুষ্ঠানের প্রথম অক্ষর নিয়ে এই উৎসবের নামকরন ‘বৈসাবি’। ত্রিপুরাদের বৈষ্ণু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসবের সমন্বয়ে বৈসাবির আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের আগের দিন থেকে শুরু হয়ে পরের দিন পর্যন্ত এই উৎসব চলতে থাকে মোট তিনদিন। এ উৎসবের মাধ্যমে তারা একই সাথে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পারিবারিক উৎসবঃ বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন ধরণের পারিবারিক উৎসব পালন করে থাকে। শিশু জন্মগ্রহণের পর আকিকা অনুষ্ঠান, খৎনা ইত্যাদি বাঙালি সমাজের চিরায়ত চিত্র। বিয়ে হচ্ছে সবচেয়ে বড় পারিবারিক উৎসব। আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্রের হাতে কন্যাদান করার মাধ্যমে শেষ হয় বিয়ের আয়োজন। অনেক পরিবারে আবার প্রতি বছর জন্মবার্ষিকী, বিবাহবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকীও পালন করা হয়।
সামাজিক উৎসবের তাৎপর্যঃ বিনোদন মাত্রই মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য উপাদান। বিনোদনের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে মানুষের চিত্ত শিহরিত হয়। এতে মানসিকভাবে তারা সর্বদা সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকার সুযোগ পায়। আর মানুষের সুস্থ বিনোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে সামাজিক উৎসব। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় মানুষ দুঃখ ভুলে আনন্দে মেতে উঠে। উৎসব হচ্ছে মূলত মানুষের সামাজিক চেতনার আনন্দমুখর অভিব্যক্তি। উৎসব ব্যতিত সমাজের সকলের মিলনমেলা সম্ভব হয় না। মানুষে মানুষে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে সামাজিক উৎসবের বিকল্প নেই। মানবজীবনে তাই উৎসবের তাৎপর্য গভীর ও ব্যাপক।
উপসংহার: বাংলাদেশে বিভিন্ন উৎসবের ধারা অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত অবিরাম চলমান। ভবিষ্যতেও চলবে বাঙালির উৎসব উম্মাদনা। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ও মিলনের প্রতীক। সামাজিক উৎসব নির্মল আনন্দের উৎস, সামাজিক উৎসবের জন্যই বাঙালি জাতিসত্তায় ভ্রাতৃত্ববোধ অত্যন্ত দৃঢ়।
সংকেত: ভূমিকা; খাদ্য সমস্যার স্বরূপ; বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট; বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের কারণ; খাদ্য সংকট সমাধানের উপায়; সরকারি উদ্যোগ; উপসংহার।)
ভূমিকা: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোকই কৃষিকাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। দেশের সিংহভাগ লোক কৃষির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে গুরুতর সংকটগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো খাদ্য সংকট। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বিপুল সংখ্যক মানুষের চাহিদার তুলনায় খাদ্য উৎপাদন অপ্রতুল। ফলে প্রতি বছরই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্য ও খাদ্যশস্য আমদানি করতে হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে খাদ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ- দুর্বল হয়ে পড়ছে।
খাদ্য সমস্যার স্বরূপ: মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে প্রথম ও প্রধান চাহিদা হলো খাদ্য। কিন্তু একটি দেশের নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার প্রভাবে দেশের সকল মানুষের এই মৌলিক চাহিদাটি যথাযথভাবে পূরণ হয় না। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য উৎপাদন কম হওয়ার ফলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ না থাকা এবং এর ফলে সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যাকেই এককথায় খাদ্য সংকট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য সংকট মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ১ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে প্রতিবছর সাড়ে ৩ কোটি মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয় যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উৎপাদিত চালের অনুপাতে জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রতিবছর চালের ঘাটতি থাকে প্রায় ১ কোটি টন।
বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: প্রাচীন বাংলায় খাদ্য সংকট ছিল বলে জানা যায় না। মূলত ১৯৪৭ পরবর্তী বিভাগোত্তরকালে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে খাদ্য সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। ১৯৫৩ সালের পর থেকে এ সমস্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। ১৯৭১ এর দুর্ভিক্ষপীড়িত, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাড়ায় খাদ্য সংকট। যদিও বর্তমানে এ সমস্যা সমাধানে সরকার কর্তৃক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের কারণ: বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যার বহুবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-
দারিদ্র্য: বাংলাদেশের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে থাকে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাকার অভাবে জমিতে ঠিক মতো সার, সেচ, উন্নতমানের বীজ প্রভৃতি প্রয়োগ করতে পারে না। আর তাই উৎপাদনও কম হয়।
সনাতন কৃষি পদ্ধতি: অতীতে যে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করা হতো, বর্তমানেও সেই একই পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। এর ফলে বৃহত্তর জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
চাষের জমির স্বল্পতা: বাংলাদেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর। কিন্তু জমি ভাগাভাগি করতে গিয়ে জমিতে আইল দেয়া এবং শিল্পায়নের জন্য আবাদী জমি ব্যবহারে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। তাই স্বল্প জমিতে ফসল উৎপাদন করে গোটা দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি: দেশে খাদ্য সংকটের প্রধান সমস্যা হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি। জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে খাদ্য চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু কৃষিজমির পরিমাণ বাড়ছে না। বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না কৃষিজমিগুলো।
কৃষকের অশিক্ষা: এদেশের কৃষকেরা অশিক্ষিত হওয়ায় তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চাষাবাদের ব্যাপারেও অজ্ঞ। কীটনাশক, সার, বীজ প্রভৃতি জমিতে প্রয়োগের সঠিক মাত্রা ও সময় তারা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ। ফলে প্রতিবছর খাদ্য ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
ভূমিহীন চাষী: আমাদের দেশের বেশীর ভাগ কৃষক অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে। তাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগই জমির মালিকের ঘরে উঠবে এই ভেবে কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে অধিক মনোযোগ দেয় না। ফলে অনিবার্যভাবেই ফসল উৎপাদন কমে যায়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ; প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি, ভূমি ক্ষয় প্রভৃতি নানা কারণে উৎপাদিত প্রচুর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দেশে দারুণভাবে খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
কৃষি ঋণের জটিলতা: কৃষি মৌসুমে কৃষককে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের কথা থাকলেও এই ঋণ প্রদানের পদ্ধতি বেশ জটিল। ফলে কৃষকেরা আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার, বীজ, কীটনাশক প্রভৃতির জন্য পর্যাপ্ত কৃষিঋণ পায় না। আর এরই ফলস্বরূপ ফসল উৎপাদনও আশানুরূপ হয় না।
খাদ্য সংকট সমাধানের উপায়: খাদ্য সংকট সমাধান করতে হলে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। সনাতন পদ্ধতির কৃষিকাজ পরিহার করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতে হবে। আমাদের দেশে যেভাবে মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য জমিতে আইল দিয়ে জমি খন্ডে খন্ডে ভাগ করা হয় তাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষ করা বেশ ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে ভূমিসত্ত্ব আইন সংশোধন করে সমবায় পদ্ধতিতে এক খামারে এক আইলে চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। গভীর ও অগভীর নলকূপ বসিয়ে সময়মতো সেচের ব্যবস্থা করা গেলে ফসল উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করে জমির উর্বরতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। ফসলের মৌসুমে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে চাষ করতে পারে। কৃষকদের যথাসম্ভব শিক্ষিত করে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করতে পারে। শিক্ষিত যুব সমাজের অংশগ্রহণে গরু-ছাগল, মৎস্য, হাস-মুরগী ও কৃষি খামার গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে করে মাছ-মাংস প্রভৃতি খাদ্য উৎপাদন বাড়বে এবং জৈব সার উৎপাদনে কৃষকের বাড়তি খরচ প্রশমিত হবে যা কৃষিকাজকে পরিবেশনির্ভর ও দূষণমুক্ত রাখবে। মাটির ধরণ, উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতার উপর ভিত্তি করে গোটা দেশের আবাদী জমিকে ভাগ করে নিতে হবে এবং এর মধ্যে কম উৎপাদনশীল জমিগুলোকে চিহ্নিত করে বাড়তি পরিচর্যা ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। বছরে একটি জমিতে কেবলমাত্র একটি বা দুটি ফসল নয় বরং সারা বছর মৌসুমভিত্তিক ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশে প্রতিবছর কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। জমিতে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এছাড়া উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ৭% শস্য নষ্ট হয়ে যায়। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি এবং গুদামজাতকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাদ্যশস্যকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সৃষ্ট খাদ্য সংকট এবং খাদ্যদ্রব্য পাচাররোধ করতে সরকারকে উপযুক্ত আইন প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে উৎপাদিত খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যের বাড়তি চাহিদা পূরণে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে।
সরকারি উদ্যোগ: সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া দেশের খাদ্য সংকট সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আশার কথা এই যে, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই খাদ্য সংকট সমাধানে বেশ কিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রণয়ন, উন্নত যন্ত্রপাতি, সার, বীজ, কীটনাশক প্রদান, কৃষি ঋণের ব্যবস্থা, বকেয়া কৃষি ঋণ ও খাজনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি, ফসল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রভৃতি কার্যকরী পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই সরকারিভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। যার ফলে কৃষিতে পূর্বের তুলনায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।
উপসংহার: দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকট দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তাই যতো দ্রুত সম্ভব খাদ্য সংকট সমাধানের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সরকারিভাবেই নয় বরং একই সঙ্গে বেসরকারিভাবেও সহযোগীতা অত্যাবশ্যক। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়ানো গেলেই জাতীয়ভাবে খাদ্যসংকট মোকাবেলা করা এবং দেশের সকল মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।